Image may contain: 1 person, beard and closeup

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
• তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, আর যাতে তারা চিন্তা করে । (সূরা আন-নাহল-৪৪)
• আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব যাতে তারা এর আয়াত সমূহে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগন উপদেশ গ্রহণ করে । (সূরা সোয়াদ-২৯)

সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ কিতাব কুরআনুল কারিম এ কিতাব সকল জ্ঞানবিজ্ঞানের মূল উৎস, পৃথিবীতে যা ঘটছে বা ঘটবে সকল বিষয়ের সমাধান পাওয়া যাবে এ কুরআনে (কোনটি সরাসরি কোনটি ইঙ্গিত আকারে) কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বর্তমান পৃথিবীতে আমরা মুসলিমরা বিভিন্ন ফন বা সাস্ত্র নিয়ে কিছুটা গবেষণা করলে ও মূল কুরআনের তাদাববুর আমাদের মধ্যে একেবারে নাই বলা না গেলেও যতটুকু আছে তা খুবই সামান্য ।
কুরআন মুখস্থ করা এবং সুরভিত কন্ঠে তেলাওয়াত করার গুরুত্ব আমরা বুঝলে ও কুরআনের অর্থ বুঝা এবং রাসুলে করিম (সঃ) এর হাদিস ও আসারে ছাহাবা দ্বারা তার সঠিক তাফসীর জানা এবং সেই অনুযায়ী জীবন ও সমাজ গড়ার মানুষিকতা আমাদের মধ্যে খুবই কম যার কারণে আমাদের সন্তানদের কেহ কেহ কুরআনের হাফেজ হয়ে কুরআনের অর্থ ও তাফসীর জানার চেষ্টা না করে কুরআনকে শুধু অন্যের বাড়িতে খতম করে বখশে দেওয়ার কিতাব বানিয়ে ফেলেছে । আর এই সুযোগে ধনী ব্যক্তিরা কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব ও কুরআন দ্বারা সমাজ গড়ার কথা ভুলে গিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্যের মাধ্যমে কেউবা পঞ্চাশ কেউবা একশ খতম কেউবা আরো বেশি খতম করিয়ে কুরআনের হক্ব আদায় করার চেষ্টা করছে ।
অথচ, কুরআন এসেছে তিলাওয়াতের জন্যে, শোনার জন্যে এবং কুরআন বুঝে সেই অনুযাই আমল করার জন্যে। হাদিস শরিফে এসেছে সাহাবায়ে কেরাম ১০ আয়াত শিখে তা ভালোভাবে বুঝে আমল করে তারপর অন্য ১০ আয়াত শিখতেন।
সুতরাং কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে কুরআনের তেলাওয়াত যেমন জরুরী তেমনি জরুরী কুরআনের অর্থ ও তাফসীর জানা এবং কুরআন নিয়ে গবেষণা করে সমসাময়িক সমস্যার সমাধান বের করা। আর এই লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে আমাদের পথচলা ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কুরআন ও ইমানের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুরআন বুঝে জীবন ও সমাজ গড়ার তাওফীক দিন । আমিন ।
মুফতি মুজাহিদুর রহমান আজিজী 
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
তাদরীবুত তাফসীর মাদ্রাসা
৫৪, বাগমারা মেইন রোড, খুলনা ।